আমরা

‘বিজ্ঞানপ্রিয়’ বাংলাদেশের একটি অনন্য বিজ্ঞান কনটেন্ট-ভিত্তিক প্লাটফর্ম। ২০১৮ সালে ফেসবুক গ্রুপের হাত ধরে বিজ্ঞানপ্রিয়র যাত্রা শুরু। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চমৎকার সব প্রামাণিক ইনফোগ্রাফিক তথ্য, ভিডিওচিত্র এবং ম্যাগাজিনসহ সময়োপযোগী নানা স্থায়ী-অস্থায়ী উদ্যোগ বিজ্ঞানপ্রিয়কে পৌঁছে দিয়েছে প্রায় ৭ লক্ষাধিক বিজ্ঞানপ্রেমীর মস্তিষ্কে।

যেভাবে ফুটন্ত তেলে হাত দেন লিয়াকত আলী!

মুহাম্মাদ শাওন মাহমুদ
Leidenfrost effect

সুপারন্যাচারাল পাওয়ার, ম্যাজিক, ভেলকি। এগুলো নিয়ে ভাবতে মস্তিষ্কে ব্যপক ডোপামিন ক্ষরণ হয়। কিন্তু এ বিষয়গুলো ততক্ষনই ভাল লাগবে, যখন আপনি এর পেছনের সুপ্ত বিজ্ঞানটা না বুঝবেন। বিজ্ঞান ছাড়া বাকী সবই তো কেবল কল্পনা। আর বাস্তবে যা দেখবেন তার সবটাই বিজ্ঞান।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া অঞ্চলে লিয়াকত আলী নামক এক ব্যক্তি ফুটন্ত গরম তেলে খালি হাত নেড়েচেড়েই খাবার ভাজছেন। এ-কি তার কোন অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা? তিনি কিভাবেই বা করছেন এমন অসম্ভব কাজ? আপনিও কি চেষ্টা করলে পারবেন এই ভেলকি দেখাতে?

লিয়াকত আলী’র বিস্ময়কর কাণ্ড শিরোনামে প্রথম আলোর প্রতিবেদন

প্রথমত এটি কোন অতিপ্রাকৃতিক বা বিশেষ ক্ষমতার কোন উদাহরণ নয়, বরং এটি এমনই একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যা সাধারণ পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। দ্বিতীয়ত এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যপক ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন ইনডাস্ট্রিয়াল কর্মী গরম গলিত লোহা খালি হাতে বারংবার স্পর্শ করছেন কোনরূপ ক্ষয়-ক্ষতি বা যন্ত্রণা ছাড়াই। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এই এফেক্টকে বলা হয় ‘লাইডেনফ্রস্ট এফেক্ট (Leidenfrost Effect)’

লাইডেনফ্রস্ট এফেক্টের ভোজবাজি

আপনি যখন খুব উত্তপ্ত কোন বস্তুর উপর ঠান্ডা পানি ফেলবেন, উত্ত্বপ্ত তলের সংস্পর্শে আসা মাত্রই পানির নিচের স্তর দ্রুতবেগে বাষ্পীভূত হয়ে গিয়ে খুব অল্প সময়ের জন্য সেখানে একটি বাষ্পীয় শূন্যস্থান সৃষ্টি করবে, যা পানির মধ্যে তাপ প্রবাহে অল্প সময়ের একটা গ্যাপ সৃষ্টি করবে। বাষ্পের সান্দ্রতা ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হওয়ায় পানির ফোটাগুলো তখন বাধাহীনভাবে ছোটাছুটি করতে থাকে।

ইনডাস্ট্রিয়াল কর্মী গরম গলিত লোহা খালি হাতে বারংবার স্পর্শ করছেন

বস্তুর এই ধর্ম ব্যবহার করে আপনি দেখাতে পারবেন নানা-রকম ভেলকি। যেমন প্রথমে আপনার হাতটা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে যে কোন গরম তরল স্পর্শ করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন সামনের ব্যক্তিকে। হাতের ঠান্ডা পানির স্তর যখনই গরম তরলের সংস্পর্শে আসবে, দ্রুতবেগে পানি বাষ্পীভূত হতে শুরু করবে। এ সময়টা গরম তরল আপনার কিছুই করতে পারবে না। পানি একবার বাষ্পীভূত হয়ে গেলেই গরম তরলের তাপে আপনার হাতে কয়েক ডিগ্রি বার্ন সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং মাথায় রাখতে হবে আপনি গরম তরল ঠিক ততক্ষণের জন্যই স্পর্শ করতে পারবেন যতক্ষণ আপনার হাতের উপরে থাকা ঠান্ডা পানির স্তরটা সম্পূর্ণ বাষ্পীভূত না হয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জের লিয়াকত আলী ঠিক এই কৌশলই ব্যবহার করেছেন। তিনি গরল তেলে হাত দেওয়ার আগে ডান পাশে রাখা লাল রঙের একটি বালতিতে ঠান্ডা পানি স্পর্শ করে সঙ্গে সঙ্গে তেলে হাত দিয়ে আবার সঙ্গে সঙ্গেই ছোঁ মেরে হাত উঠিয়ে ফেলেন।

কিন্তু এই এক্সপেরিমেন্ট বাসায় করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এই ভেলকি দেখাতেও লিয়াকত আলীর মত মানুষেরও বহু অনুশীলনের প্রয়োজন হয়েছে। প্রথম প্রথম তেল ছিটে নিজের ও অন্যের গায়ে লাগতে পারে, সামান্য ভুলের জন্য কয়েক ডিগ্রি বার্ন পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই এ ধরণের ভেলকি দূরত্ব বজায় রেখে শুধু দেখেই যান আর ভাবুন, বেচারা তেলের যদি মুখ থাকতো, এ অপমান কি করে সইতো!

Total
0
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published.