আমরা

‘বিজ্ঞানপ্রিয়’ বাংলাদেশের একটি অনন্য বিজ্ঞান কনটেন্ট-ভিত্তিক প্লাটফর্ম। ২০১৮ সালে ফেসবুক গ্রুপের হাত ধরে বিজ্ঞানপ্রিয়র যাত্রা শুরু। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চমৎকার সব প্রামাণিক ইনফোগ্রাফিক তথ্য, ভিডিওচিত্র এবং ম্যাগাজিনসহ সময়োপযোগী নানা স্থায়ী-অস্থায়ী উদ্যোগ বিজ্ঞানপ্রিয়কে পৌঁছে দিয়েছে প্রায় ৭ লক্ষাধিক বিজ্ঞানপ্রেমীর মস্তিষ্কে।

যেভাবে ভুয়া চিকিৎসায় মিছেমিছি রোগ ভাল হয়

বিজ্ঞানপ্রিয় ডেস্ক
Placebo Effects

“আমি মানুষের মনের অলৌকিকতায় বিশ্বাস করি।
অন্য কোন অলৌকিকতার কথা জানি না!”
— ম্যাক্সিম গোর্কি

মানুষের মন চিরকালই রহস্যময় ছিল, আছে, থাকবে। তাইতো যুগ যুগ ধরে এর প্রকৃতি, চিন্তাধারা, ভাবনার কারণ, ভিত্তি ও উপায় এবং মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে শিক্ষিত সমাজ ও জ্ঞানতপস্বী মনীষীগণ গভীরভাবে ভেবেছেন, গবেষণা করেছেন, তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন। যেখানেই অজানাকে জানার প্রয়োজন, অপ্রত্যাশিত ঘটনার ব্যাখ্যা প্রয়োজন, রহস্যের উন্মোচন প্রয়োজন; সেখানেই বিজ্ঞান এগিয়ে এসেছে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা মনোবিজ্ঞানের (Psychology) অস্তিত্বই তা প্রমাণ করে।

বর্তমান যুগে আমরা সবাই কম-বেশি মোটিভেশন শব্দটির সাথে পরিচিত। “মানসিক শক্তি তোমার সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার”, “মানসিকভাবে শক্ত থাকলে কোন কাজই অসম্ভব নয়”, “মনের জোরে সবকিছুকে জয় করা সম্ভব”, “আপনার মনের পরিবর্তন জীবনকে পাল্টে দেবে”, “সব সময় ইতিবাচক ভাবে ভাবতে শিখুন”— এমনসব কথা শোনেননি এমন মানুষ এই যুগে পাওয়া যাবে না। কথাগুলো বলার প্রেক্ষাপট ভিন্ন, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু কখনো চিন্তা করে দেখেছেন, সত্যি সত্যিই মানুষের মন একজন মানুষকে কতটা প্রভাবিত করতে সক্ষম? প্রভাবিত করার ক্ষেত্রগুলোর বিস্তৃতি কতটা ব্যাপক হতে পারে? আমরা সবাই জানি যে, মানুষের মনের পরিবর্তন তার দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মে পরিবর্তন সাধন করতে পারে, যার প্রভাব তার জীবনে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এক এবং একমাত্র মনের পরিবর্তন কি আমাদের দৈহিক বা স্বাস্থ্যগত ব্যাপক কোনো প্রভাব সৃষ্টির কারণ হতে পারে? মেডিক্যাল সায়েন্সের এমনই একটা বিষয় প্লাসিবো ইফেক্ট (Placebo Effect) নিয়ে চলুন কিছু কথা বলা যাক ।

প্লাসিবো ইফেক্ট (Placebo Effect)

প্লাসিবো ইফেক্ট কী সেটা বুঝতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে প্লাসিবো কাকে বলা হয়। চিকিৎসাবিদ্যায় প্লাসিবো বলতে কোনো ওষুধ, ইনজেকশন বা অন্য কোনো কিছুকে (চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও হতে পারে) বোঝায় যা আপাতদৃষ্টিতে গতানুগতিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া বা তার অংশ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে ঠিক তা নয়। সোজা ভাষায় বললে, দেখতে ওষুধের মতো কিন্তু ওষুধ নয়, কিংবা দেখতে ইনজেকশনের মতো কিন্তু আসলে তা নয়।

প্লাসিবো মূলত বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেখানে দুটি বিশেষ গ্রুপের মাঝে এক গ্রুপের সদস্যদের কোনো একটি রোগের জন্য নির্ধারিত নতুন প্রস্তুতকৃত ওষুধ দেওয়া হয় এবং অপর গ্রুপটিকে প্লাসিবো পিল প্রদান করা হয়। যেহেতু প্লাসিবো কোনো সক্রিয় ওষুধ বা নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, তাই স্বভাবতই রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটানোর ক্ষেত্রে এর তেমন বড়ো কোনো প্রভাব ফেলার কথা না। এই ধারণাকে সামনে রেখে গবেষকগণ প্লাসিবো প্রদানকারী গ্রুপ এবং নতুন ওষুধ প্রদানকারী গ্রুপের সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোর মাঝে তুলনা করেন এবং নতুন ওষুধটি আসলেই কতটা কার্যকরী তা নির্ধারণ করেন।

এখন আসা যাক প্লাসিবো ইফেক্টে। যখন কোনো ব্যক্তিকে সক্রিয় চিকিৎসা প্রক্রিয়ার বদলে প্লাসিবো প্রদান করা সত্ত্বেও তার অবস্থার যে কোনো প্রকারের উন্নতি পরিলক্ষিত হয়, তখন তাকে প্লাসিবো ইফেক্ট বলা হয়। যেমন, এক গবেষণা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একদল হাঁপানি রোগীকে কিছু প্লাসিবো ইনহেলার (আসল ইনহেলারের মতো দেখতে, কিন্তু পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়) দেওয়া হলো, যার পক্ষে আদৌ কোনো ভালো প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব নয়। কিন্তু গবেষকগণ যখন রোগীদের কাছে জানতে চাইলেন যে তারা কেমন বোধ করছিলেন, তখন তাদের কয়েকজন বলেন— ওষুধ গ্রহণের পর অন্যসময়ের মতোই তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। এক্ষেত্রে দুটো বিষয় হওয়া সম্ভব—

  • উক্ত রোগীদের তেমন শ্বাসকষ্টই ওঠেনি।
  • প্লাসিবো ইনহেলার গ্রহণের পর তারা মানসিকভাবে অনেকটা শক্তি পেয়েছেন বা ভালো অনুভব করেছেন।

ধারণা করা হয়, এটি মূলত মানুষের মনের প্রত্যাশার উপর নির্ভর করে। যদি কোনো ব্যক্তি দৃঢ় আশা রাখেন বা বিশ্বাস করেন যে কোনো ওষুধ তার অবস্থার কিছু না কিছু উন্নতি সাধন করতে পারবে (যেটা বাস্তবে প্লাসিবো পিল পারে না), তবে এটা সম্ভব যে তার দেহের নিজস্ব রাসায়নিক ব্যবস্থা একই রকম প্রভাব ফেলবে, যা অন্য সময়ে মূল ওষুধটির প্রভাবে ফেলতো। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের দেহের উপর মনের প্রভাব কী রূপ? কতটা গভীর? এত বড়ো একটা ব্যাপার কীভাবে ঘটা সম্ভব? কেননা, কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণের পর দেহে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া, আর নিষ্ক্রিয় ওষুধকে আসল ওষুধ মনে করে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশায় বসে থাকার পর একই রকম প্রতিক্রিয়া বা তার কাছাকাছি কিছু পাওয়ার মধ্যে আসমান-জমিন তফাৎ।

আরও ধারণা করা হয় যে, প্রত্যেক তিনজন ব্যক্তির মধ্যে অন্তত একজনের মাঝে এই প্লাসিবো ইফেক্ট দেখা যায়!

মনোবিজ্ঞান প্লাসিবো ইফেক্টকে কিভাবে ব্যাখ্যা করে?

প্লাসিবো ইফেক্ট মানুষের মন এবং দেহের মাঝে বিদ্যমান বিস্ময়কর এক সংযোগ, অন্যরকম এক সম্পর্ককে তুলে ধরে যা এখনো পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তারপরেও মনোবিজ্ঞানে এর কতিপয় ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

ক্ল্যাসিক্যাল কন্ডিশনিং (Classical Conditioning)

সাধারণত আমাদের মাঝে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়ার কারণ হিসেবে পূর্বঘটিত নির্দিষ্ট কিছুকে দায়ি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, আমাদের ভেতরে কাজ করা এই ব্যাপারটাকেই বিজ্ঞানের পরিভাষায় ক্ল্যাসিক্যাল কন্ডিশনিং বলে। উদাহরণস্বরূপ: ধরুন কোনো একটি খাবার খাওয়ার পর আপনার অস্বস্তি হতে লাগল বা শরীর খারাপ করলো। তখন স্বভাবতই আপনার মনে হবে খাবারটি খাওয়ার কারণে হয়তো আপনার এরূপ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হয়তো আপনি খাবারটি এড়িয়ে চলবেন, যদিও প্রকৃত কারণ ভিন্ন হতে পারে।

অনুরূপভাবে, ধরুন আপনি মাথাব্যথা কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটা ওষুধ ব্যবহার করেন। ব্যবহারের পর যখন ভালো ফল পান, তখন আপনার মস্তিষ্কে গেঁথে যায় যে এই ওষুধটি আপনার মাথাব্যথা কমিয়ে স্বস্তি দিতে সক্ষম। ফলে পরবর্তীতে যদি আপনাকে একই রকম দেখতে একটি প্লাসিবো পিল দেওয়া হয়, তখনো আপনার মনে হতে পারে যে মাথাব্যথা কমে যাচ্ছে বা আপনি তুলনামূলকভাবে ভালো অনুভব করছেন।

প্রত্যাশা (Expectations)

প্লাসিবো ইফেক্টের পেছনে অনেক বড়ো একটি কারণ মানুষের প্রত্যাশা। আপনারা নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন যে, যদি কোনো বিষয় বা কোনো কিছুকে নিয়ে আপনার আগে থেকেই অনেক আশা-প্রত্যাশা থাকে, তবে সেটির ব্যাপারে আপনার করা যে-কোনো চিন্তা বা অনুভব করা যে-কোনো অনুভূতি আপনার প্রত্যাশা দ্বারা প্রভাবিত হবে। একইভাবে, যদি আপনি মনে করেন কোনো একটি ওষুধ খেলে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে বা আপনি স্বস্তি পাবেন, ওষুধটি খাওয়ার পর সত্যি সত্যিই আপনি পূর্বাপেক্ষা কিছুটা ভালো অনুভব করতে পারেন।

কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা প্রক্রিয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে এই প্রত্যাশা বা ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হতে পারে কয়েকভাবে। যেমন—

  • আপনাকে যদি কোনো ডাক্তার বা নার্স দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দেন যে, অমুক ওষুধ আপনাকে দ্রুত ভালো হয়ে উঠতে সাহায্য করবে, তবে আপনার মনে সেই ওষুধটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে।
  • যদি আপনি আপনার অসুস্থ অবস্থা থেকে উন্নতি লাভের উদ্দেশ্যে সক্রিয় বা সরাসরিভাবে কোনো কাজ করে থাকেন (কোনো ওষুধ খাওয়া বা ইনজেকশন নেওয়া), তবে সেটি আপনাকে কিছুটা মানসিক স্বস্তি প্রদান করতে পারে, যার ফলে আপনি অপেক্ষাকৃত ভালো অনুভব করবেন।
  • আমাদের দেশে একটা কথা আপনারা প্রায়ই শুনে থাকবেন যে, একজন ডাক্তারের রোগীর সাথে ব্যবহার বা যেভাবে তিনি ইন্টার‍্যাক্ট করেন; সেটি যদি ভালো হয়, তবে সেটাই রোগীকে অর্ধেক ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কথাটা কিন্তু মোটেই ফেলনা নয়। বাস্তবিকভাবেই, আপনার ডাক্তারের কণ্ঠস্বর, ভাবভঙ্গি, মুখের হাসি, চোখে চোখ রেখে কথা বলা ইত্যাদি আপনাকে আপনার চিকিৎসা প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আরও অধিক ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন করে তোলে, মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয় এবং রোগ বা চিকিৎসা প্রক্রিয়া যত কঠিনই হোক না কেন, আপনাকে আশার আলো দেখায়।

প্লাসিবো ইফেক্টের বাস্তব রূপ

মাইগ্রেইন (Migraine)

২০১৪ সালে একটি পরীক্ষা করা হয়, যেখানে শুধু ওষুধের ল‍্যাবেলিং ৬৬ জন এপিসোডিক মাইগ্রেন রোগীর উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করে তা বিশ্লেষণ করা হয়। পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয় এভাবে—

রোগীদেরকে ৬টি ভিন্ন মাইগ্রেইন এপিসোডে একটি করে পিল নিতে বলা হয়। এই এপিসোড গুলোর সময়ে তাদেরকে হয় একটি প্লাসিবো পিল, অথবা Maxalt (মাইগ্রেনের ব্যথার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ) প্রদান করা হতো। তবে প্রকৃতপক্ষে তারা প্লাসিবো পিল খাচ্ছে না কি Maxalt খাচ্ছে তা তারা জানতো না, কেননা পরীক্ষার প্রয়োজনে গবেষকগণ ওষুধগুলোকে নিজেদের সুবিধামতো ল‍্যাবেলিং করেছিলেন। অর্থাৎ, উপরে Maxalt লেখা কোনো ওষুধ আসলে প্লাসিবো হতে পারে, একইভাবে উপরে প্লাসিবো লেখা কোনো ওষুধ প্রকৃতপক্ষে Maxalt হতে পারে । রোগীদেরকে বলা হয়েছিল ব্যথা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পরে তাদের যার যার জন্য নির্ধারিত ওষুধ গ্রহণ করতে এবং তার আড়াই ঘণ্টা পর তাদের ব্যথার অবস্থা কেমন তা জানাতে।

পরীক্ষণ শেষে গবেষকগণ লক্ষ্য করেন ওষুধের ল‍্যাবেলিং-এর উপর ভিত্তি করে যে প্রত্যাশা বা মানসিক প্রভাব রোগীদের মাঝে তৈরি হয়েছিল, তা ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। তারা লক্ষ্য করেন:

আশানুযায়ী, Maxalt প্লাসিবো পিল অপেক্ষা রোগীদেরকে অধিক স্বস্তি প্রদান করেছে বা অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে (যা হবার কথা ছিল)।

প্লাসিবো পিল গ্রহণকারী রোগীদের পরবর্তী অবস্থা কোনো চিকিৎসা না দেওয়া রোগীদের চেয়ে উত্তম।

অনেকের ক্ষেত্রে প্লাসিবো ইফেক্ট এতটাই শক্তিশালীভাবে দেখা যায় যে, যারা প্লাসিবো ল‍্যাবেলিং করা Maxalt খেয়েছিলেন এবং যারা Maxalt ল‍্যাবেলিং করা প্লাসিবো পিল খেয়েছিলেন তাদের উভয়েই একই রকম স্বস্তি পেয়েছেন বা ব্যথা কমে গিয়েছে বলে জানান!

ডিপ্রেশন (Depression)

২০১৫ সালে আরেকটি পরীক্ষা চালানো হয় ডিপ্রেশনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৩৫ জন রোগীর উপর। এক্ষেত্রে তাদের সবাইকেই প্লাসিবো পিল দেওয়া হয়। কতকগুলোর উপর ল‍্যাবেলিং করা হয় ‘fast-acting antidepressants’ (বোঝার সুবিধার্থে ধরে নিন active placebo), আর বাকিগুলোর উপর ‘Placebo’ (ধরে নিন inactive placebo) লিখেই ল‍্যাবেলিং করা হয় । দুটি দলে ভাগ করে একদলকে অ্যাক্টিভ প্লাসিবো এবং অপর দলকে ইন্যাক্টিভ প্লাসিবো পিল দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর তাদের মস্তিষ্কের PET স্ক্যান (Positron Emission Tomography) করা হয় এবং স্ক্যান চলাকালীন অ‍্যাক্টিভ প্লাসিবো গ্রুপের সদস্যদের একটি করে প্লাসিবো ইনজেকশন দেওয়া হয় (বলা হয় এটি তাদের মুডকে ভালো করবে)। অন্যদিকে ইন্যাক্টিভ প্লাসিবো গ্রুপের সদস্যদের ওই সময়ে কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয় না। সবশেষে সকল রোগীকে ১০ সপ্তাহ ধরে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট মেডিসিন দেওয়া হয়।

গবেষকগণ লক্ষ্য করেন, কিছু ব্যক্তির উপর প্লাসিবো ইফেক্ট দেখা যায় যা তাদের মস্তিষ্কের ক্রিয়া-কলাপ এবং পরবর্তীতে দেওয়া অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের ফলে সৃষ্ট দৈহিক প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে । তারা দেখতে পান—

  • অ্যাক্টিভ প্লাসিবো পিল গ্রহণকালীন সময়ে উক্ত গ্রুপের রোগীদের মাঝে ডিপ্রেশনজনিত লক্ষণগুলো তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে ।
  • যাদেরকে অ্যাক্টিভ প্লাসিবো পিল ও প্লাসিবো ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল তাদের PET স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের মস্তিষ্কের আবেগ এবং চাপ নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পৃক্ত নির্দিষ্ট অংশে ক্রিয়া-কলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • যাদের মস্তিষ্কের এই ক্রিয়া-কলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের অনেকের দেহই পরবর্তীতে আসল অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট মেডিসিন নেওয়ার সময় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রতিক্রিয়া প্রদান করছে।

সর্দি-কাশি (Cough)

একটি কফ মেডিকেশন ট্রায়ালের রিভিউ অনুযায়ী, প্লাসিবো দ্বারা (অর্থাৎ প্লাসিবো ইফেক্টের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে) রোগীর সর্দি-কাশি শতকরা ৮৫ ভাগ পর্যন্ত কমানো সম্ভব, বাকি ১৫ ভাগের জন্য সক্রিয় উপাদানসমূহ প্রয়োজন, যা মূল ওষুধে থাকে।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন (Erectile dysfunction)

এক গবেষণায় উপস্থিত রোগীদেরকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রথম গ্রুপকে বলা হয় যে, তাদেরকে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় গ্রুপকে বলা হয় য, তাদেরকে হয় প্লাসিবো না-হয় প্রকৃত চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং তৃতীয় গ্রুপকে বলা হয় যে তাদেরকে প্লাসিবো প্রদান করা হবে।

বাস্তবে তিনটি গ্রুপকেই প্লাসিবো স্টার্চ ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিনটি গ্রুপের সদস্যদের অবস্থার ব্যাপক উন্নতি তো সাধিত হয়ই, উন্নতির মাত্রায় কোনো কমবেশি পর্যন্ত হয় না।

পারকিনসন রোগ (Parkinson Disease)

১১টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের রিভিউ অনুযায়ী, পারকিনসন রোগীদের যে-সকল গ্রুপে প্লাসিবো ট্রিটমেন্ট প্রদান করা হয়েছে, সেসকল গ্রুপের ১৬ শতাংশ রোগীর অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যার স্থায়িত্ব প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত। মস্তিষ্কের স্ট্রায়াটামে ডোপামিনের নিঃসরণ এই প্লাসিবো ইফেক্টের কারণ হতে পারে বলে মনে করা হয়।

যদিও প্লাসিবো কোনো প্রকৃত চিকিৎসা প্রক্রিয়া বা সক্রিয় ওষুধ নয়, গবেষকগণ ব্যথা এবং ডিপ্রেশনের পাশাপাশি স্লিপ ডিসঅর্ডার, Irritable Bowel Syndrome এবং মেনোপজের ক্ষেত্রে এর প্রভাব লক্ষ্য করেছেন। এছাড়াও প্লাসিবোর প্রভাবে পরীক্ষা চালানো গ্রুপগুলোর সদস্যদের মাঝে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, দুশ্চিন্তা এবং মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা অনেকটাই আমাদের দেহের ও স্বাস্থ্যের ভালো থাকার উপর মস্তিষ্কের প্রভাবকে ইঙ্গিত করে।

উল্লেখ্য, ব্যথার অনুভূতি কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী প্লাসিবো ইফেক্ট দেখা যায় বলে মনে করা হয়। কিছু পরীক্ষা অনুযায়ী, প্লাসিবো পিল নেওয়ার পর শতকরা ৩০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষই তাদের ব্যথা কমে গিয়েছে বলে মনে করেন।

প্লাসিবো ইফেক্টের মাত্রা ও ধরণ এবং তাদের ভিত্তিসমূহ

বেশি কথা না বাড়িয়ে কিছু পরীক্ষালব্ধ ফলাফল বা পর্যবেক্ষণ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি—

  • আকারে বড়ো ওষুধ, ছোটো আকারের ওষুধের তুলনায় শক্তিশালী প্লাসিবো ইফেক্ট তৈরি করে।
  • ইনজেকশন, ট্যাবলেটের চেয়ে শক্তিশালী ইফেক্ট তৈরি করে।
  • দুটি ট্যাবলেট, একটি ট্যাবলেট অপেক্ষা শক্তিশালী ইফেক্ট তৈরি করে।
  • ক্যাপসুল, ট্যাবলেট অপেক্ষা শক্তিশালী ইফেক্ট তৈরি করে।
  • একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাসিবো পিলের রঙও ইফেক্টের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

লাল, হলুদ এবং কমলা রং উদ্দীপনা সৃষ্টি করে বা উদ্দীপক প্রভাবের সাথে সম্পৃক্ত এবং নীল ও সবুজ রং ধীর-স্থির করার ক্ষেত্রে প্রভাব সৃষ্টি করে।

Dr. A.J. de Craen, researcher, BMJ


স্থান বা দেশভেদেও প্লাসিবো ইফেক্টের মাত্রা কমবেশি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: গ্যাস্ট্রিক আলসারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্লাসিবো ইফেক্ট ব্রাজিলে তুলনামূলকভাবে কম, উত্তর ইউরোপে কিছুটা বেশি এবং বিশেষ করে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কিন্তু হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে অন্য যে-কোনো জায়গার তুলনায় জার্মানিতে প্লাসিবো ইফেক্ট সবচেয়ে কম দেখা যায়।

আমরা কতটা জানি? কতটা জানি না?

বাস্তব অনেক ক্ষেত্রে প্লাসিবো ইফেক্টের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলেও এর সম্পর্কে অনেক কিছুই এখনো আমাদের অজানা। বর্তমানে এটি নিয়ে গবেষণা চলছে এবং প্রতিবছরই আমরা নতুন কিছু না কিছু জানতে পারছি। একটি বড়ো প্রশ্ন হলো— আমাদের মন এবং দেহের অভ্যন্তরীণ সংযোগ; আশা-প্রত্যাশার মতো মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো কীভাবে আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে? আমরা জানি যে, প্লাসিবো ইফেক্টের ফলে আমাদের দেহের অভ্যন্তরে নিউরোট্রান্সমিটার এবং হরমোনের (যেমন: ডোপামিন, এন্ডরফিন প্রভৃতি) নিঃসরণ হওয়া সম্ভব, যা দেহের অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তন সাধন করতে পারে। কিন্তু পুরো ব্যাপারটা একটি জটিল নিউরোবায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়া বলে ধারণা করা হয়, যার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে এখনও কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

প্লাসিবো ইফেক্ট নিয়ে আরো কিছু প্রশ্ন

রোগের কোন উপসর্গ বা লক্ষণগুলোর ক্ষেত্রে প্লাসিবো ইফেক্ট দেখা যায়? এই প্রভাব কতটা কম বা কতটা বেশি হতে পারে?
উক্ত উপসর্গগুলোর ক্ষেত্রে প্লাসিবো প্রচলিত ওষুধের মতোই কার্যকরী হবে? নাকি তার তুলনায় অধিক কার্যকরী হতে পারে?
প্লাসিবো ইফেক্ট রোগীর কিছু লক্ষণের উন্নতি ঘটাতে পারে এটা সত্যি, কিন্তু কখনোই উপযুক্ত চিকিৎসা নয় (অর্থাৎ পুরোপুরি ভালো করতে পারে না)। তাই এক্ষেত্রে মূল ওষুধ বা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পরিবর্তে প্লাসিবো ব্যবহার কতোটা নৈতিক?
বিশেষ করে ৩ নম্বর প্রশ্নটির ব্যাপারে তর্ক-বিতর্ক চলছে বহু আগে থেকেই। কেউ কেউ দাবি করেন, প্লাসিবো ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ডাক্তার রোগীকে ধোঁকা দিচ্ছেন বা এক প্রকারের প্রতারণা করছেন। আবার কেউ বলেন, এতে যদি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল হয়ে থাকে, তবে তাকে কার্যকরী চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মনে করা উচিত। আরেকদল মানুষ বলেন, সাময়িক অবস্থার উন্নতির আশায় ডাক্তারের রোগীকে প্লাসিবো প্রেসক্রাইব করার মধ্য দিয়ে গুরুতর কোনো অসুখের মূল চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চাপা পড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তার এবং ফার্মাসিস্টরা নিজেদেরকে ভণ্ড বা প্রতারক হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

তাই অন্যান্য নৈতিকতা-অনৈতিকতার বিতর্কের মতো এই ব্যাপারটি নিয়েও আরো বেশ ক’দিন বিতর্ক চলবে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

বর্তমান সময়ের বিজ্ঞান মনে করে, উপযুক্ত অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্লাসিবোর ব্যবহার গতানুগতিক চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মতোই কার্যকর হতে পারে। “প্লাসিবো ইফেক্ট শুধুই ইতিবাচক মানসিকতা নয়, বরং তার চেয়ে বেশি কিছু; বিশ্বাস করা যে, উক্ত চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি কাজ করবেই এবং নিজের দেহের সাথে মস্তিষ্কের এক শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা।” বলে মন্তব্য করেন হার্ভার্ড সংশ্লিষ্ট Beth Israel Deaconess Medical Cent-এর প্রফেসর টেড কাপচুক, যাঁর গবেষণার মূল বিষয়বস্তু এই প্লাসিবো ইফেক্ট।

তিনি আরো বলেন, “প্লাসিবো আপনার কোলেস্টেরলের লেভেল কমাবে না বা টিউমারের আকার ছোটো করতে পারবে না, বরং প্লাসিবো এমনসব রোগ-লক্ষণের উপর কার্যকর যেগুলো আপনার মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা প্রভাবিত, যেমন ব্যথার অনুভূতি। প্লাসিবো আপনাকে ভালো অনুভব করাতে পারে , কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে না।”

সম্প্রতি বিশেষজ্ঞগণ এই ধারণায় উপনীত হয়েছেন যে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে প্লাসিবো ব্যবহারে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া মানেই যে নতুন ওষুধ বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি অকার্যকর তা নয়, বরং এক্ষেত্রে কোনো ‘non-pharmocological mechanism’ থাকতে পারে, যা হয়তো আমাদের অজানা।

কাপচুকের মতে,

প্লাসিবো ইফেক্ট একটি মাধ্যমের মতো যার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক আপনার দেহকে জানিয়ে দেয় যে তার ভালো অনুভব করার জন্য কী প্রয়োজন।

একটা প্রশ্ন আপনাদের সবার মনে উদয় হওয়ার কথা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীদেরকে জানানো হয় না যে তাদেরকে প্লাসিবো দেওয়া হচ্ছে, তাই না হয় প্লাসিবো কার্যকর হলো, কিন্তু যখন তাদেরকে প্লাসিবো প্রদান করার পূর্বে জানিয়ে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রেও কেন প্লাসিবো ইফেক্ট দেখা যায়?

গবেষকগণ মনে করেন, এর পেছনে একমাত্র কারণ হলো শুধু ওষুধটি (প্লাসিবো) খাওয়া! বিশ্বাস হচ্ছে না? এ ব্যাপারে কাপচুক বলেন, “মানুষ সবসময়ই ওষুধ খাওয়া বা গ্রহণের ব্যাপারটিকে ‘positive healing effect’ হিসেবে ভেবে নেয়। যদিও তারা জানে এটি ওষুধ নয় , শুধু খাওয়ার এই কাজটুকু মস্তিষ্ককে ভাবাতে সক্ষম যে, স্বাস্থ্যগত অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বা হবে।”

সবশেষে তিনি বলেন, “নিজের প্রতি যে মনোযোগ ও যতটা ইমোশনাল সাপোর্ট আপনি নিজেকে দিতে পারবেন, তার গুরুত্ব সব সময় সহজে পরিমাপ করতে পারবেন না, কিন্তু এটি আপনাকে কিছুটা হলেও আনন্দের সাথে এই পৃথিবীতে থাকতে দেবে। আর স্বাস্থ্যগত উন্নতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত সুদুরপ্রসারী হতে পারে।”

প্লাসিবো ইফেক্ট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

প্লাসিবোর শক্তি বা প্লাসিবো ইফেক্টকে মানুষের উপকারে সর্বোচ্চ কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়েই বর্তমানে গবেষকগণ গবেষণা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই কতকগুলো ক্ষেত্রে প্লাসিবোর কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। ভবিষ্যতে যদি সাধারণ গতানুগতিক ধারার ওষুধের পাশাপাশি প্লাসিবোর ব্যবহার মূল ধারার চিকিৎসা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তবে তা চিকিৎসা ব্যবস্থায় অন্যরকম এক পরিবর্তন আনবে ও উন্নত করবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এক্ষেত্রে একটি কথা না বললেই নয়। ধরুন কোনো এক রোগে আক্রান্ত রোগীর অবস্থার উন্নতির লক্ষ‍্যে ঐ রোগের জন্যই নির্ধারিত অত্যন্ত কার্যকরী একটি ওষুধ আপনি দিতে চান, কিন্তু উক্ত ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা ঐ রোগীর জন্য বড়ো ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে বলে আপনি দিতে পারছেন না। এক্ষেত্রে ঐ ওষুধের ছদ্মবেশে কোনো প্লাসিবো পিল যদি রোগীর উপর উক্ত ওষুধের মতোই বা তার কাছাকাছি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়, তবে তার চেয়ে উত্তম আর কি হতে পারে?

মেডিসিনের প্রফেসর ও ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট রবার্ট বাকম্যান-এর একটি উক্তি সরাসরি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি—

Placebos are extraordinary drugs. They seem to have some effect on almost every symptom known to mankind, and work in at least a third of patients and sometimes in up to 60 percent. They have no serious side effects and cannot be given in overdoses. In short, they hold the prize for the most adaptable, protean, effective, safe, and cheap drugs in the world’s pharmacopeia.

পরিশেষে বলতে চাই, সময়ের সাথে সাথে এই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয়ই আরো গবেষণা হবে, বেরিয়ে আসবে নতুন তথ্য, মানুষ জানতে পারবে এমন কিছু যা সে আগে জানতো না। হয়তো মেডিকেল সায়েন্সের অপার সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে যাব, হয়তো প্লাসিবো ইফেক্টের কথা শুনে আর কেউ চমকে উঠবে না, হয়তো প্লাসিবোর ব‍্যবহার নিত‍্যদিনের চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ‍্য অংশ হয়ে উঠবে।

প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও প্রখ্যাত আমেরিকান লেখক নেপোলিয়ন হিল-এর এই কথাটি হয়তো সেদিন এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে,

মানুষের মন যা কিছু বিশ্বাস করতে পারে,
মানুষের মন সেটাই অর্জন করতে পারে।

লেখাটি বিজ্ঞানপ্রিয়র প্রথম ই-ম্যাগাজিন “নেবুলা”—একুশে সংখ্যা থেকে সংগৃহিত। লিখেছেন আকাশ আব্দুল্লাহ সিদ্ধার্থ (নটরডেম কলেজ)। ম্যাগাজিনটি ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন।

Total
0
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published.